সিমেন্ট খাতের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (ক্রিসল)।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ৩৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ ও ১৯ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ। এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩৮২ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫৯৪ কোটি টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ২৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ১২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ১ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ১২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৮৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ১৪ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের পর্ষদ। এর বাইরে আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটি দুই দফায় ১৫ ও ১৮ শতাংশ হারে অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। সব মিলিয়ে আলোচ্য হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোম্পানিটি মোট ৪৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৮৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৩৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১৫ টাকা ২৫ পয়সায়।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক হোলসিম গ্রুপ ও স্পেনভিত্তিক সিমেন্টোস মলিন্স গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৩ সালে।
বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৪০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ১৬১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৬১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১১৬ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, দশমিক ৮৫ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ১৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।